বাংলাদেশে পাত্র-পাত্রী খোঁজা প্রায়ই পুরো পরিবারের কাজ। বাবা-মা আত্মীয়দের জিজ্ঞেস করেন, বিশ্বস্ত বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলেন, ভালো পরিবারের খোঁজ রাখেন। আপনি যদি ছেলে-মেয়ের জন্য পাত্র-পাত্রী খুঁজছেন এমন অভিভাবক হন, বন্ধন আপনাকে সাহায্য করার সুযোগ দেয়, আর সন্তানকেই রাখে সবকিছুর কেন্দ্রে।
এই পাতায় জানবেন অভিভাবক অ্যাকাউন্ট কীভাবে কাজ করে, আপনি কী করতে পারেন আর কী পারেন না, এবং কীভাবে খোঁজাটা সবার জন্য সহজ করা যায়।
অভিভাবক অ্যাকাউন্ট কীভাবে কাজ করে
বন্ধনে প্রোফাইলটি যিনি বিয়ে করবেন, তাঁর। আপনার ছেলে বা মেয়ে নিজেই অ্যাকাউন্ট খোলেন, এনআইডি আর ছোট একটি সেলফি ভিডিও দিয়ে পরিচয় যাচাই করেন, তারপর ছয়টি ছোট ধাপে প্রোফাইল সাজান।
এরপর বাবা-মা বা অভিভাবক সেই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন, তবে শুধু সদস্যের সম্মতিতে। আপনাকে যুক্ত করবেন কি না, সে সিদ্ধান্ত সন্তানের। এতে খোঁজাটা সৎ থাকে: আপনার সন্তানের সঙ্গে যাঁর পরিচয় হয়, তিনি জানেন প্রোফাইল আর সিদ্ধান্ত দুটোই সত্যিই তাঁর।
অভিভাবক কী পারেন, কী পারেন না
যুক্ত অভিভাবকের কাজ খোঁজায় সাহায্য করা। বাস্তবে এর মানে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করা, ছেলে বা মেয়ে আসলে কী চান তা ভাবতে সাহায্য করা, আর সাজেস্ট করা প্রোফাইলগুলো নিয়ে একসঙ্গে আলাপ করা। প্রতিটি প্রোফাইল কেন সাজেস্ট করা হলো, যেমন মূল্যবোধ, এলাকা বা শিক্ষার মিল, বন্ধন তা দেখায়, তাই আলোচনার জন্য দুজনের হাতেই নির্দিষ্ট কিছু থাকে।
কিছু স্পষ্ট সীমা আছে, আর সেগুলো আপনার সন্তানকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্যই:
- অভিভাবক সদস্যের কথোপকথন পড়তে পারেন না।
- অভিভাবক সদস্যের হয়ে কিছু করতে পারেন না, অর্থাৎ ইন্টারেস্ট পাঠানো বা গ্রহণ করা, কিংবা মেসেজের উত্তর দেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
- কার সঙ্গে কথা বলবেন, কখন বলবেন, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সদস্যের।
অনেক বাবা-মা এই সীমাগুলোতে বরং স্বস্তি পান। ছেলে-মেয়ে খোলামনে কথা বলতে পারে, আবার আপনিও অর্থপূর্ণভাবে পুরো প্রক্রিয়ার অংশ থাকেন।
পরিবার মিলে খোঁজা সফল করতে
শুরুতেই একমত হয়ে নিন কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে জরুরি আর কোনগুলো নয়। মূল্যবোধ, শিক্ষা, ধর্ম আর বিয়ের পর কোথায় থাকবেন, এসব নিয়ে আলোচনা স্বাভাবিক। বন্ধন কখনো গায়ের রং, জাত বা সম্পদ দিয়ে ফিল্টার করতে বলে না, আর আমরা যৌতুকের বিরুদ্ধে। বাংলাদেশে যৌতুক বেআইনি।
মনে রাখবেন, বন্ধন শুধু বাংলাদেশের আইনি বিয়ের বয়স পূর্ণ হয়েছে এমন মানুষের প্রোফাইল প্রকাশ করে: নারীর ১৮, পুরুষের ২১। মতের অমিল কীভাবে নরমভাবে সামলাবেন, এমন আরও পরামর্শ আছে পরিবারের সঙ্গে খোঁজা গাইডে।
বন্ধন আপনার পরিবারের গোপনীয়তার কথাও মাথায় রাখে। সন্তানের পুরো নাম গোপন থাকে, ছবি কে দেখবে তা সে নিজে ঠিক করে, আর প্রোফাইল কখনো গুগলে আসে না। অন্য পরিবারের সঙ্গে দেখা করার সময় এলে পরিকল্পনায় সাহায্য করবে নিরাপদে দেখা করার গাইড।
ছেলে বা মেয়েকে বলুন বিনা মূল্যে প্রোফাইল খুলতে, তারপর তাঁর সম্মতিতে আপনার অভিভাবক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করুন।
সাধারণ প্রশ্ন
বাবা-মা কি ছেলে-মেয়ের জন্য ম্যাট্রিমনি প্রোফাইল খুলে দিতে পারেন?
বন্ধনে সদস্য নিজেই প্রোফাইল খোলেন ও যাচাই করেন, কারণ পরিচয় যাচাই হয় তাঁর নিজের এনআইডি আর সেলফি ভিডিও দিয়ে। এরপর সদস্যের সম্মতিতে বাবা-মা বা অভিভাবক সেই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে খোঁজায় সাহায্য করতে পারেন। এতে প্রোফাইল আসল থাকে, আর সিদ্ধান্ত থাকে যিনি বিয়ে করবেন তাঁর হাতে।
অভিভাবক হিসেবে কি সন্তানের মেসেজ পড়তে পারব?
না। অভিভাবক সদস্যের কথোপকথন পড়তে বা তাঁর হয়ে কিছু করতে পারেন না। এতে আপনার ছেলে বা মেয়ের গোপনীয়তা রক্ষা পায়, আর যাঁদের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁদের সঙ্গে সে খোলামনে কথা বলতে পারে। তবু সাজেস্ট করা প্রোফাইল নিয়ে একসঙ্গে আলাপ করে আর নিজের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ দিয়ে আপনি সাহায্য করতে পারেন।
বন্ধনে প্রোফাইলের জন্য কি ন্যূনতম বয়স আছে?
হ্যাঁ। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ২০১৭ অনুযায়ী বাংলাদেশের আইনি বিয়ের বয়স পূর্ণ হয়েছে এমন মানুষের প্রোফাইলই বন্ধন প্রকাশ করে: নারীর ১৮, পুরুষের ২১। যাচাই করা সদস্যের জন্মতারিখ আসে এনআইডি থেকে, তাই যাচাই করা প্রোফাইলে দেখানো বয়স কেউ নিজের ইচ্ছেমতো লিখে দিতে পারে না।
সন্তানের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে কীভাবে সাহায্য করব?
প্রথমে জিজ্ঞেস করুন সে জীবনসঙ্গীর মধ্যে কী চায়, আর নিজের মত দেওয়ার আগে মন দিয়ে শুনুন। মূল্যবোধ, ধর্ম আর বিয়ের পর কোথায় থাকবে, এমন সত্যিকারের জরুরি বিষয়গুলো নিয়ে একসঙ্গে একমত হোন। তারপর আলাপের নেতৃত্ব ছেলে-মেয়েকে দিন, আপনি পরামর্শ দিন, সময় হলে অন্য পরিবারের সঙ্গে দেখা করুন, আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পাশে থাকুন।